ভোলায় রোগীদের স্বজনদের হয়রানি এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সামনে অবস্থানরত এ অ্যাম্বুলেন্সগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে স্বজনদের থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন অ্যাম্বুলেন্স এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক
ভোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে প্রায় ২৫-৩০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকে, যার অধিকাংশই ফিটনেস এবং লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করে না। এদের মধ্যে কয়েকজন চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক। রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে এসব অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল বা ঢাকায় যেতে।
অতিরিক্ত ভাড়া ও সিন্ডিকেটের দাপট
রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের বাইরে থাকা অন্য অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে রোগী নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়। এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, সদর হাসপাতাল থেকে ইলিশা লঞ্চঘাট পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া চাওয়া হয় ১৫০০ টাকা, যা অন্য জায়গার অ্যাম্বুলেন্স ৮০০ টাকায় দিতে রাজি হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের চাপের কারণে বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, বোরহানউদ্দিন উপজেলা থেকে রোগী নিয়ে আসার পর ঢাকায় নেওয়ার জন্য স্থানীয় চালকরা ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন। অন্য উপজেলার চালক কম টাকায় রাজি হলেও তাদের বাধা দেওয়া হয় এবং হুমকিও দেওয়া হয়।
মালিক ও চালকদের বক্তব্য
ভোলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. মিলন হাওলাদার সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করলেও ফিটনেসবিহীন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ
ভোলা পুলিশ সুপার মো. শরীফুল হক জানিয়েছেন, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া এবং সিন্ডিকেটের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এ অবস্থায় রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।