লালমোহনে ব্রি ধান-১০৩ চাষে খুলছে সম্ভাবনার দ্বার

ভোলার লালমোহন উপজেলায় প্রথমবারের মতো উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-১০৩ চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরছকিনা এবং পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কলেজপাড়া এলাকার ছয়জন কৃষক ৪০০ শতাংশ জমিতে এ ধান আবাদ করেছেন।

কৃষি অফিসের সহায়তায় কৃষকরা বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক এবং বীজ সংরক্ষণের ড্রাম পেয়েছেন। কালমা ইউনিয়নের কৃষকরা আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধান কাটতে শুরু করবেন, আর পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কৃষকরা ২০-২৫ দিনের মধ্যে ধান কাটার প্রস্তুতি নেবেন।

কৃষকদের আশা এবং লাভের সম্ভাবনা
চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল, মো. সেলিম এবং শেখ সাদি জানিয়েছেন, তারা ২০০ শতাংশ জমিতে এই ধান চাষে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। তবে তারা আশা করছেন, এই ধান থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন। একই আশা ব্যক্ত করেছেন কলেজপাড়া এলাকার কৃষক মো. নান্নু, মোস্তফা কামাল এবং কাকলি রানি। অতিবৃষ্টির কারণে তাদের ধান আবাদ কিছুটা দেরিতে শুরু হলেও তারা ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন।

কৃষি অফিসের ভূমিকা এবং মন্তব্য
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন জানান, উচ্চফলনশীল ফসল আবাদে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা ভালো ফলন পাবেন এবং এই জাতের ধান চাষে আরও আগ্রহী হবেন।

ব্রি ধান-১০৩ এর বৈশিষ্ট্য
ব্রি ধান-১০৩ একটি দ্রুত পাকার উচ্চফলনশীল ধান। এতে রোগবালাই কম হয় এবং কম খরচে চাষাবাদ সম্ভব। কৃষকরা এ ধান থেকে বীজ উৎপাদন করে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে চাষ করতে চান।

এবারের সফলতা লালমোহনের কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। ধান চাষে কৃষকদের এই অগ্রগতি খাদ্য উৎপাদনে দেশকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *